মালিগাঁওয়ে শহিদ দিবস ও জুবিন গার্গের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও র্যালি।
মালিগাঁও, ২০ সেপ্টেম্বর : অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে মেনস ফেডারেশন -এর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত রেল শ্রমিক সংগঠনগুলির উদ্যোগে প্রতি বছর ১৯ সেপ্টেম্বর সারা দেশের বিভিন্ন রেল জোনে শহিদ দিবস পালন করা হয়। ১৯৬৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ন্যূনতম প্রয়োজনভিত্তিক বেতন, মূল্যবৃদ্ধির প্রতিকার এবং মূল বেতনের সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা সংযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে রেল শ্রমিকরা একদিনের প্রতীকী ধর্মঘটে সামিল হয়েছিলেন। ওই আন্দোলনে আটজন রেলকর্মী শহিদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছর দিনটি শহিদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এন.এফ. রেলওয়ে সদর দফতরের সামনে বিকেল ৩টা থেকে শহিদ দিবসের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময় সিঙ্গাপুরে জুবিন গার্গের আকস্মিক মৃত্যুর মর্মান্তিক সংবাদে সমগ্র অসম শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এনএফআরএমইউ সেদিনের সমস্ত শহিদ দিবসের কর্মসূচি বাতিল করে।
এই কারণে ১৯ সেপ্টেম্বর শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মৃতি এবং জুবিন গার্গের স্মৃতির এক বিরল সংযোগের দিন হয়ে ওঠে। জুবিন নিজেকে বহুবার ‘কমরেড’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। মানবতা, মানুষের অধিকার, ঐক্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি তাঁর সংবেদনশীলতা তাঁর কর্ম ও সৃষ্টিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
শনিবার এন.এফ. রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়নের উদ্যোগে এন.এফ. রেলওয়ে প্রধান কার্যালয়ের ২ নম্বর গেটের সামনে শহিদ দিবস ও জুবিন গার্গের মহাপ্রয়াণের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। পরে মালিগাঁও রেলনগরীর মধ্য দিয়ে জুবিনের মানবতা, ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দিতে একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি র্যালি বের হয়। র্যালিতে দুই শতাধিক রেলকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও প্রবীণ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, মালিগাঁও, পান্ডু, নির্মাণ ও মহিলা শাখার নেতারা।
শাখা সম্পাদক পঙ্কজ কলিতা জানান, এই কর্মসূচি শ্রমিকের অধিকার ও সংগ্রামের ঐতিহ্যের পাশাপাশি মানবতা, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতিও অঙ্গীকারের প্রতীক।



No comments