Header Ads

https://drive.google.com/file/d/1KYvwcVfpdZA0pOa_z8Gqbqub5aWa8YEk/view?usp=sharing.jpg

অম্বুবাচী মহাযোগ কামাখ্যা ধামে তীর্থযাত্রীদের স্বাগত জানাতে, জারি বিশেষ নির্দেশিকা ব্যবস্থা।

 

গুয়াহাটি , ১৮ জুন: আসন্ন অম্বুবাচী মহাযোগ উপলক্ষে কামাখ্যা দেবালয় কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। দেবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছরের অম্বুবাচী মহাযোগ ২২ জুন থেকে ২৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত পালন করা হবে। অম্বুবাচীর প্রবৃত্তি হবে ২২ জুন রাত ৯টা ৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। এই সময়ে ২৩, ২৪ ও ২৫ জুন দেবালয়ের দুয়ার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। এরপর ২৬ জুন ভোরে দেবীর স্নান ও পূজা সম্পন্ন হওয়ার পর দেবালয়ের দ্বার পুনরায় তীর্থযাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

দেবালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ২৬ ও ২৭ জুন বিশেষ দর্শন (৫০০ টাকার) ব্যবস্থা বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে ২১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভিআইপি ও ভিভিআইপি দর্শনের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।

অম্বুবাচী উপলক্ষে নীলাচল পাহাড়ে আগত ভক্তদের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নীলাচল পাহাড়ের আশপাশে তীর্থযাত্রীদের জন্য কোনো ধরনের খাবার বিতরণ করা যাবে না। তবে কামাখ্যা নামনি পথসহ বিভিন্ন পথে চিকিৎসা সেবা, খাবারঘর ও বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। 

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেবালয় কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ১২০ জন নিরাপত্তাকর্মী, ৫০০ জন স্কাউট-গাইড, ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ২৫০ জন অস্থায়ী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্দির চত্বরে ৫০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দেবালয়ের নিজস্ব ৩০০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সঙ্গে আরও ২০০ জন অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত থাকবেন।

২৬ জুন দেবীর দর্শনের জন্য আগত বিপুল সংখ্যক ভক্তদের সুবিধার্থে বনশীবাগান এলাকায় অস্থায়ী বিশ্রামাগার, চিকিৎসা কেন্দ্র, প্রসাধনাগার ও খাবারঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২৬ ও ২৭ জুন দর্শনার্থীদের জন্য টোকেন ব্যবস্থা চালু থাকবে।

দেবালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সেবায় আগ্রহী বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের জন্য দেবালয় তহবিল থেকে খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অম্বুবাচীর দিনগুলোতে ভোর ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নীলাচল পাহাড়ে প্রবেশের অনুমতি থাকবে এবং পুনরায় সন্ধ্যা ৫টার পর প্রবেশ করা যাবে।

ভক্তদের নিজ নিজ জুতা-চপ্পল কামাখ্যা উরণীয়া সেতুর নিচে রেখে পাহাড়ে প্রবেশের অনুরোধ জানানো হয়েছে, কারণ দেবালয়ের কাছে জুতা রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। শিশু, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নীলাচল পাহাড়কে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করে প্রশাসন সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে এবং মাদকদ্রব্য সেবন করে কেউ যেন মন্দিরে প্রবেশ না করেন, সে বিষয়ে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, শৌচাগার, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। নামনি কামাখ্যা গেট থেকে ওপরে যাওয়ার পুরো পথজুড়ে পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে এবং ভক্তরা নাটমন্দির (নামনি কামাখ্যা) থেকে ওপরে উঠে ত্রিনয়নী মন্দির হয়ে বন শী বাগান দিয়ে মূল মন্দির চত্বরে প্রবেশ করতে পারবেন।

দেবালয় কর্তৃপক্ষ সকল ভক্ত ও তীর্থযাত্রীর সহযোগিতা কামনা করে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল অম্বুবাচী মহাযোগ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.