Header Ads

https://drive.google.com/file/d/1KYvwcVfpdZA0pOa_z8Gqbqub5aWa8YEk/view?usp=sharing.jpg

গরম পড়তেই বাজারে তেজপুরের বিশ্বখ্যাত লিচু, বিদেশেও বাড়ছে চাহিদা,


গুয়াহাটি, ২৯ মে : গরমের দিন শুরু মানেই লিচুর মৌসুম। আর লিচুর মৌসুম এলেই চর্চায় উঠে আসে তেজপুরের বিশ্বখ্যাত লিচু। রাজ্যবাসীর পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বহু মানুষ আগ্রহভরে অপেক্ষা করে তেজপুরের লিচুর স্বাদ গ্রহণের জন্য। এই লিচু শুধু একটি ফল নয়, বরং তেজপুর তথা শোণিতপুর জেলার গর্ব এবং অসমের ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

তেজপুরের লিচু ইতিমধ্যেই জিআই ট্যাগ লাভ করেছে, যা এর অনন্য স্বাদ, সুগন্ধ ও গুণগত মানকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে তেজপুরের লিচু দেশের অন্যতম বিশেষ কৃষিজাত পণ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তবে এবার এই লিচু আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তেজপুরের বিশ্ববিদ্যালয়েরএর নিকটবর্তী  এলাকার এক স্থানীয় যুব কৃষকের একক প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত লিচু এখন রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও সমাদৃত হচ্ছে। ওই কৃষকের বিশাল লিচুবাগানে রয়েছে মোট ৪০০টি লিচু গাছ। সেখানে এক বা দুই নয়, মোট সাত ধরনের উন্নত ও সুস্বাদু লিচুর চাষ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রজাতি হল— বোম্বাই, পিয়াজি, বিলাতি, শাহী এবং এলাচি।

এই বিশেষ স্বাদের লিচু কিনতে প্রতিদিনই বাগানে বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজারে এই লিচুর চাহিদা ও গুণগত মান এতটাই বেশি যে ক্রেতারা উচ্চমূল্য দিতেও পিছপা হচ্ছেন না। জানা গেছে, শাহী লিচুর দাম শুরু হচ্ছে প্রতিটি ৭ টাকা থেকে, এলাচি লিচু ১০ টাকা, পিয়াজি লিচু ১৫ টাকা, বিলাতি লিচু ৩৫ টাকা এবং বোম্বাইয়া লিচু প্রতিটি ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সাধারণত লিচু কিলো বা গোছা হিসেবে বিক্রি হলেও, একটি লিচুর দামই যখন ৮০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়, তখন তার গুণগত মান সহজেই অনুমান করা যায়। বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি বিদেশেও এই লিচু রপ্তানি করা হচ্ছে।

নপামের এই যুব কৃষকের অসাধারণ সাফল্য শুধু তাঁকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করেনি, বরং অসমের স্থানীয় কৃষিজাত পণ্যকে আন্তর্জাতিক দরবারে পরিচিত করে তুলেছে। পাশাপাশি, কৃষিকাজের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য রাজ্যের অন্যান্য যুবক-যুবতীদের কাছেও এটি এক নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

No comments

Powered by Blogger.