ঘরোয়া ও ভক্তিময় পরিবেশে ত্রিবেণী হাউজিং সোসাইটিতে দুর্গোৎসব আয়োজন।
মালিগাঁও, ৭ অক্টোবর: কোনো বাহ্যিক জাঁকজমক নয়, নেই প্রতিযোগিতার আড়ম্বর—শুধু ভক্তি, নিষ্ঠা ও পারিবারিক মিলনমেলার আবহে এবারও শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে ত্রিবেণী হাউজিং সোসাইটি পূজা কমিটি। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পূজা এ বছর ২৮তম বর্ষে পদার্পণ করল । ত্রিবেণী হাউজিং কমপ্লেক্সের ৫৪টি পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা।
ত্রিবেণী হাউজিং সোসাইটির দুর্গাপূজার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে একচালার সাবেকি প্রতিমা। মৃৎশিল্পী রতন পালের হাতে নির্মিত প্রতিমায় মা দুর্গাকে তুলে ধরা হবে চিরপরিচিত বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মাতৃরূপে। সিংহবাহিনী দশভুজা মা দুর্গা অসুরদলনী রূপে মহিষাসুরকে বধ করছেন—পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে নিয়ে একচালার প্রতিমায় ফুটে উঠবে বাঙালির চিরন্তন দুর্গোৎসবের ঐতিহ্য। সাবেকি অলংকার, মায়ের শান্ত অথচ শক্তিময় মুখাবয়ব ও ঐতিহ্যবাহী বিন্যাস প্রতিমায় এনে দেবে এক বিশেষ আবেগঘন আবহ।
পূজাকে ঘিরে থাকবে সাধারণ অথচ রুচিশীল প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা। প্রতিমা নির্মাণের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা ও আলোকসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন রাজু, যার জন্য নির্ধারিত হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার সম্পূর্ণ বাজেট প্রায় ২ লক্ষ টাকা।
পূজা কমিটির পরিচালনায় রয়েছেন সভাপতি রেখা ভট্টাচার্য, সম্পাদিকা নন্দিনী সাহা ও কোষাধ্যক্ষ অসীম চক্রবর্তী। আবাসনের মহিলারাও পূজার যাবতীয় কাজে সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করবেন। নিজেদের হাতে পূজার বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করার এই ঐতিহ্যই ত্রিবেণী আবাসনের দুর্গোৎসবকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আবাসন চত্বরে কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি কেয়ারটেকারের উপরও নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে।
ত্রিবেণী হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দাদের কাছে এই দুর্গাপূজা শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও একতার এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। আবাসনের পরিবার একসঙ্গে একটি বৃহৎ পরিবারের মতো মায়ের আরাধনায় সামিল হয়ে পুজোর ক'টি দিন আনন্দ, ভক্তি ও ভালোবাসায় কাটানোর অপেক্ষায় রয়েছেন।
No comments