Header Ads

https://drive.google.com/file/d/1KYvwcVfpdZA0pOa_z8Gqbqub5aWa8YEk/view?usp=sharing.jpg

পান্ডু রেস্ট ক্যাম্প কালীবাড়ির দুর্গোৎসব, থাইল্যান্ডের মিউজিয়ামের আদলে মণ্ডপে ফুটবে হিন্দু-বৌদ্ধ সংস্কৃতির মেলবন্ধন


 

মালিগাঁও, 13 অক্টোবর: শারদোৎসবের আবহে সেজে উঠতে প্রস্তুত পাণ্ডুর ঐতিহ্যবাহী রেস্ট ক্যাম্প কালীবাড়ি। এ বছর ৭৮ বছরে পদার্পণ করতে চলেছে রেস্ট ক্যাম্প কালীবাড়ির সার্বজনীন দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গার আরাধনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। দুর্গোৎসব সমিতির সদস্যরা পুজোকে সুষ্ঠু ও আকর্ষণীয় করে তুলতে দিনরাত কাজ করে চলেছেন।

এবারের পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে ১৮ ফুট উচ্চতার মা দুর্গার প্রতিমা। পশ্চিমবঙ্গের মৃৎশিল্পী কাশীনাথ পাল তৈরি করছেন প্রতিমা। দেবী দুর্গার বিশাল প্রতিমাকে কেন্দ্র করে এবারের পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আবহ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুজোর মোট বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে রয়েছে আশীর্বাদ ডেকরেটার্স। থাইল্যান্ডের মিউজিয়ামের আদলে নির্মিত হতে চলেছে এবারের মণ্ডপ। মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে হিন্দু ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে । ফলে প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপের শিল্পকর্ম ও কারুকার্যও দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে বলে উদ্যোক্তাদের আশা।

মা দুর্গার আগমনে ঢাকের তালে উৎসবের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত করে তুলবেন ঢাকি মনজিৎ মালী ও তাঁর সঙ্গীরা। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত সাত দিন ধরে রেস্ট ক্যাম্প কালীবাড়ির সাংস্কৃতিক মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি বিশিষ্ট শিল্পীরাও তাঁদের পরিবেশনা নিয়ে উপস্থিত থাকবেন।

রেস্ট ক্যাম্প কালীবাড়ির দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ বিশাল মেলা। পুজোর দিন থেকেই শুরু হবে এই মেলা। পাণ্ডু ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মেলায় ভিড় জমাবেন। বহিরাজ্য থেকেও বিভিন্ন মেলার দল অংশ নেবে। থাকবে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবারের স্টল। শিশু-কিশোরদের জন্য থাকবে নানা ধরনের আকর্ষণীয় রাইড ও খেলার স্টল। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য গাড়ি পার্কিংয়েরও সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়মনীতি মেনে পুজো মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীও মোতায়েন থাকবে। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত পরিবেশে দেবী দুর্গার দর্শন ও উৎসব উপভোগ করতে পারেন,



প্রতিবছরের মতো এবারও পুজোর স্মরণিকা প্রকাশিত হবে। স্মরণিকায় বিশিষ্ট সাহিত্যিক, কবি ও গল্পকারদের লেখা স্থান পাবে। স্মরণিকা প্রকাশের দায়িত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সাহিত্যিক দীপক ভদ্র। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

রেস্ট ক্যাম্প কালীবাড়ির এই দুর্গোৎসব তাই শুধু দেবী দুর্গার আরাধনায় সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও। এবারের  দেবী প্রতিমা, থাইল্যান্ডের মিউজিয়ামের আদলে নির্মিত মণ্ডপ, হিন্দু-বৌদ্ধ সংস্কৃতির মেলবন্ধন, আলোকসজ্জা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন মিলিয়ে পাণ্ডু-মালিগাঁও তথা গুয়াহাটির পুজোপ্রেমীদের কাছে রেস্ট ক্যাম্প কালীবাড়ির দুর্গোৎসব বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে।

পুজো কমিটির সভাপতি অমল চৌধুরী, সম্পাদক অমিত রায় (বাপী) এবং সহ-সম্পাদক সজল চৌধুরী-সহ কমিটির সদস্যরা এবারের দুর্গোৎসবকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

No comments

Powered by Blogger.