অজানার দেশে পাড়ি দিলেন সুকণ্ঠী শিল্পী চিত্রা দাস
গুয়াহাটি, ৬ অক্টোবর: পান্ডু-মালিগাঁও তথা অসমের বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী, সংগীত শিক্ষিকা ও সুকণ্ঠী গায়িকা চিত্রা দাস (তোতা) সোমবার রাতে আকস্মিকভাবে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে পান্ডু-মালিগাঁও অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও সংগীতমহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পান্ডু নিবাসী বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী শিবশঙ্কর দাসের সহধর্মিণী ছিলেন তিনি। চিত্রা দাস মালিগাঁও নেতাজি বিদ্যাপীঠ রেলওয়ে হাই স্কুলের ১৯৮৫ সালের প্রাক্তনী ছাত্রী ছিলেন।
১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করা চিত্রা দাস ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। সংগীতের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ শ্রোতা ও শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করত। শৈশব থেকেই তিনি একাধিক বিশিষ্ট গুরুর কাছে সংগীতের তালিম নেওয়ার সুযোগ পান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দিলীপ (রতন) সরকার, স্বর্গীয় যতীন্দ্র নাথ শর্মা (গুয়াহাটি), সংগীতজ্যোতি শিবেন ব্যানার্জি (গুয়াহাটি), পণ্ডিত অলোক চ্যাটার্জী (কলকাতা), দেবজিৎ রায় (গুয়াহাটি), হৈমন্তী শুক্লা (কলকাতা) এবং ধ্রুব ভট্টাচার্যী (কলকাতা), প্রমুখ।
১৯৮১ সালে তিনি প্রভাকর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতির উভয় শাখায় বিশারদ অর্জন করেন। শাস্ত্রীয় সংগীতেও তিনি নিপুণতা অর্জন করেছিলেন এবং ভাতখণ্ডে সংগীতশাস্ত্রের প্রশিক্ষণ লাভ করেন। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়েতে কর্মরত চিত্রা দাস কর্মজীবনের পাশাপাশি সংগীতচর্চা ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাঁর কাছে সংগীত শেখা অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে ছিল তাঁর গভীর স্নেহ ও ভালোবাসার সম্পর্ক। নিখাদ মমতা ও আন্তরিকতায় তিনি তাঁদের আপন করে রেখেছিলেন। তাঁর প্রয়াণে স্বামী শিবশঙ্কর দাস ও দুই কন্যাসহ আত্মীয়-স্বজন, প্রিয়জন, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব এবং অগণিত ছাত্রছাত্রী শোকাহত।
চিত্রা দাসের স্মিত হাসিমাখা মুখ, স্নেহময় ব্যবহার এবং সংগীতের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা প্রিয়জন ও অসংখ্য শিক্ষার্থীর হৃদয়ে আজীবন অমলিন হয়ে থাকবে। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে সকলকেই একদিন না ফেরার দেশে যেতে হয়। তাঁর আত্মা পরমেশ্বরে লীন হোক—এই প্রার্থনাই জানিয়েছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।


No comments