সোমনাথ যাত্রা কামাখ্যা রেলস্টেশন থেকে গুজরাটের পথে ১,০৬৪ তীর্থযাত্রী
গুয়াহাটি, ২৬ সেপ্টেম্বর: পাঁচ হাজার বছরের ভারতীয় সভ্যতার মূল ভিত্তি ঐতিহ্য ও পরম্পরা লক্ষ্য রেখে—কামাখ্যা রেলস্টেশন থেকে ‘সোমনাথ যাত্রার শুভ সূচনা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় এর শুভ সূচনা করেন অসমের সাংস্কৃতিক পরিক্রমা দপ্তরের মন্ত্রী বিমল বরা।
সোমনাথ মন্দির ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে বহু ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যেও আজও গুজরাটে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতীয় মানুষের আধ্যাত্মিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে সোমনাথ মন্দিরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অনুষ্ঠানে তিনি সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাসও তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, ১০২৬ খ্রিস্টাব্দে সোমনাথ মন্দিরে প্রথম আক্রমণ হয়েছিল। ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির উপর সেই নিগ্রহের এক হাজার বছর পূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বছরব্যাপী ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-এর আয়োজন করেছে। পাশাপাশি, স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালে মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হয় ও সেই পুনর্নির্মাণেরও ৭৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। একই সময়ে ভারতীয় সংস্কৃতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় স্মরণ করা হয়।
আস্থা, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চেতনার অনন্য প্রতীক সোমনাথ ধামের এক হাজার বছরের ঐতিহ্য ও অদম্য বিশ্বাসের পরিক্রমা উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজিত ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-এর অংশ হিসেবে অসমেও ‘সোমনাথ যাত্রা ২০২৬’-এর আয়োজন করা হয়।
এই উপলক্ষে অসমের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ১,০৪২ জন তীর্থযাত্রী এবং চিকিৎসক, আধিকারিক ও পুলিশসহ মোট ১,০৬৪ জন যাত্রীকে নিয়ে বিশেষ ট্রেনটি শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে কামাখ্যা রেলস্টেশন থেকে গুজরাটের উদ্দেশে রওনা হয়। দলে অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা ও সিকিমের যাত্রীরাও রয়েছেন। দলটি ২৯ সেপ্টেম্বর গুজরাটে পৌঁছাবে ও ৩ অক্টোবর গৌহাটিতে ফিরে আসবে।
যাত্রার ফ্ল্যাগ অফ করে মন্ত্রী বিমল বড়া অসমবাসীর পক্ষ থেকে সকল যাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিক্রমা দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব ড. বি. কল্যাণ চক্রবর্তী, সাংস্কৃতিক সঞ্চালকালয়ের সঞ্চালক রাহুল চন্দ্র দাসসহ দপ্তরের বহু আধিকারিক ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।


No comments