Header Ads

https://drive.google.com/file/d/1KYvwcVfpdZA0pOa_z8Gqbqub5aWa8YEk/view?usp=sharing.jpg

গোমাতাকে ‘রাষ্ট্রমাতা’ স্বীকৃতির দাবিতে সর্বভারতীয় স্বাক্ষর অভিযান


 

গুয়াহাটি, ১৮ জুলাই: বৃন্দাবন থেকে আগত স্বামী গোপাল নন্দজী মহারাজ শনিবার পান্ডু সনাতন দেবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আসামসহ সমগ্র দেশের গৌ-প্রেমী, সাধক, সন্ত ও গো-সেবকদের উদ্যোগে গোমাতার সুরক্ষার দাবিতে একটি সর্বভারতীয় গণআন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের মূল দাবি হলো দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সম্পূর্ণভাবে গরু হত্যা নিষিদ্ধ করা, গোমাতাকে ‘রাষ্ট্রমাতা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং গো-সেবকদের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় আইন প্রণয়ন। পাশাপাশি কৃষকদের কাছে গোমাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গোবর ও গোমূত্রভিত্তিক কৃষি, সংস্কৃতি ও চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে বিশ্বকল্যাণের লক্ষ্যও তুলে ধরা হয়।





আন্দোলনে বিভিন্ন ধর্ম, সম্প্রদায় ও সমাজের মানুষ অংশ নেয়।এখানে কোনো ব্যক্তিকে নেতৃত্বের পদ দেওয়া হয়নি; গোমাতাকেই সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে সবাই সমানভাবে সেবকের ভূমিকা পালন করছেন। স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও দেশে গরু হত্যা চলমান থাকায় তা বন্ধের দাবিতে প্রথম পর্যায়ে ৪০ কোটি স্বাক্ষর সংগ্রহের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২৭ এপ্রিল ২০২৬-এ প্রথম স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ২৭ জুলাই দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৫ কোটি স্বাক্ষর সরকারকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ কোটিরও বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল, বিভিন্ন মুখ্যমন্ত্রী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

আসামের জন্য অভিন্ন গো-নীতি, গোচার বোর্ড গঠন, গরু পালনকারী কৃষকদের সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য, মৃত গোমাতার শেষকৃত্যের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা সংশোধনের দাবিও জানানো হয়েছে। গো-সেবকদের মতে, গরু-ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থায় চা-বাগানের উৎপাদন বাড়বে, ছত্রাকজনিত ক্ষতি কমবে, ফল-সবজি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে এবং গোশালা-ভিত্তিক পর্যটনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।




আসামের প্রতিটি জেলায় স্বাক্ষর অভিযান চালিয়ে আন্দোলনকে কোহিমা থেকে কাশ্মীর, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতায় গরু হত্যা বন্ধে জনসমর্থনের আহ্বান জানিয়ে গো-সেবকরা গোমাতাকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবিও তোলেন। কোরবানি প্রসঙ্গে তাঁদের বক্তব্য, ‘বলি’ শব্দের অর্থ ত্যাগ এবং প্রাণহানির পরিবর্তে ভালোবাসা ও ত্যাগের মূল্যবোধ অনুসরণ করা উচিত। পাশাপাশি গরু হত্যার অপরাধে অন্তত আজীবন কারাদণ্ড, অপরাধীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ এবং কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানানো হয়। তাঁদের ঘোষণা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দিল্লিতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও পরবর্তী বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।

No comments

Powered by Blogger.