পাণ্ডু গ্রাম্য দেবতা মন্দিরে বর্ণাঢ্য দৌল উৎসব উদযাপিত
গুয়াহাটি, ৪ মার্চ— রঙের উৎসব দোলযাত্রা, যা বসন্তের আনন্দঘন মুহূর্তকে চিত্রিত করে।দোল হিন্দু ধর্মের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিনে শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে আবির ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও গোপীদের সঙ্গে রঙের খেলায় মেতে উঠেছিলেন, সেই থেকেই দোলযাত্রার প্রচলন। এই উৎসবের ধর্মনিরপেক্ষ দিকও রয়েছে, যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আবির, গুলাল ও নানা রঙে নিজেদের রাঙিয়ে তোলে।
দোলযাত্রার এই পবিত্র উৎসবে পাণ্ডুর গ্রাম্য দেবতা মন্দির এক বিশেষ স্থান অধিকার করে। একসময় এই মন্দির ছিল কদম গাছের নিচে এক পাথরের মূর্তির রূপে, যেখানে নিয়মিত পূজা অর্চনা করা হত। ১৯৬৯ সালে মন্দির নির্মাণের পর শীতলা ও নারায়ণ দেবতার প্রতিদিন পূজা শুরু হয়। প্রায় দেড়শ বছরের প্রাচীন পরম্পরা অনুসারে, প্রতি বছর রাধাগোবিন্দের দৌলযাত্রা এখানে মহাধুমধামে পালিত হয়। এ বছরও সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে ২, ৩, ও ৪ মার্চ দোলপূর্ণিমার উপযুক্ত বিধি মেনে মন্দিরে পূজা ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
প্রথম দিন অর্থাৎ সোমবার অনুষ্ঠিত হয় হোলি দহন ও হলিকা দাহ পর্ব, যা অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জয়কে প্রতীকী রূপে উপস্থাপন করে। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দৌলপূর্ণিমার পূজা ও যজ্ঞ আয়োজিত হয়, যেখানে ধর্মপ্রাণ ভক্তরা অংশগ্রহণ করে।বুধবার তৃতীয় দিনে এক বিশেষ শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিষ্ণু মূর্তির বিগ্রহ পাণ্ডুর টেম্পল ঘাটের পাণ্ডু নাথ দেবালয় ও এলাকার নাম ঘর থেকে বিগ্রহ এনে গ্রাম্য দেবতা মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। শোভাযাত্রাটি নিমাই দাশের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় ।শোভাযাত্রাটি দেখতেও খুব সুন্দর হয়।
এছাড়াও, এদিন পাণ্ডু টেম্পল ঘাটের স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের নিজ নিজ নামঘর থেকে কৃষ্ণ মূর্তির দৌল নিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা করে গ্রাম্য দেবতা মন্দিরে উপস্থিত হন। ভক্তরা গ্রাম্য দেবতা মন্দিরে পৌঁছায় ও পূজা অর্চনা করে পরে পুনরায় দৌল নিয়ে শোভাযাত্রা করে মন্দির ও নামঘরে ফিরে যায়।
পাণ্ডু বিভিন্ন স্থান থেকে বিগ্রহ এসে পৌঁছানোর পর থেকে মন্দির চত্বরে এক অনন্য রঙের উৎসব শুরু হয়। নাম, কীর্তন ও ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে ভক্তরা ভগবানের আরাধনায় মগ্ন হন। পাণ্ডুর গ্রাম্য দেবতা মন্দিরের সভাপতি আলোক শর্মা, সাধারণ সম্পাদক বিপুল শর্মা, যৌথ সম্পাদক বিপুল ভড়ালি, অশোক ভরালি ও কোষাধক্ষ্য নৃপেন ভরালি জানান যে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মহিলারা ও ভক্তরা প্রতিদিন হোলি উপলক্ষে নাম কীর্তন করেন। পূর্ণিমার দিন বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভক্তদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ছিল। উপস্থিত ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
এই আনন্দঘন উৎসবে ধর্ম ও সংস্কৃতির এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়, যেখানে ভক্তি, উৎসব এবং সমাজের ঐক্য একত্রে মিলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ও ভক্তরা রঙের ছোঁয়ায় নিজেদের ডুবিয়ে এক অপূর্ব পরিবেশ সৃষ্টি করেন, যা সত্যিই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

No comments