ফাকুয়া, অসমের এক অন্যতম উৎসব
গুয়াহাটি,2 মার্চ।হোলি অসমের অন্যতম উৎসব। ভারতের বিভিন্ন স্থানে এই উৎসব ‘হোলি’ নামে পরিচিত হলেও অসমে একে ফাকুয়া বলা হয়। অসমের বৈষ্ণব সংস্কৃতির সঙ্গে হোলির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শুধু রং খেলার আনন্দই নয়, এই উৎসব অসমীয়া সমাজ-সংস্কৃতি, ধর্মীয় ভাবধারা ও ঐতিহ্যকেও প্রতিফলিত করে।
ফাকুয়া মূলত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলার সঙ্গে জড়িত। বৈষ্ণব ধর্ম অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে গোপীদের সঙ্গে রং খেলেছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্মৃতিতেই হোলি উদযাপন করা হয়। অসমের মহান বৈষ্ণব সাধক শ্রীমন্ত শংকরদেব ও মাধবদেব প্রতিষ্ঠিত বৈষ্ণব ধর্ম অসমের উৎসব-পার্বণকে বিশেষ রূপ দিয়েছে।হোলি উপলক্ষে নামঘর ও সত্ৰসমূহে কীর্তন, নাম-প্রসঙ্গ ও ভাওনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে বরপেটা সত্ৰে হোলি মহাসমারোহে পালিত হয়।
হোলি অসমীয়া সমাজে মিলন ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ এই উৎসব একসঙ্গে উদযাপন করে। গ্রাম ও শহরে ছোট-বড় সকলেই রং খেলে, গান গায় এবং আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। অসমের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় রীতি-নীতি অনুসারে ফাকুৱা উদযাপিত হয়। কোথাও ঢোল, তাল ও খোলের শব্দে নাম-কীর্তন হয়। আবার কোথাও গ্রামের যুবক-যুবতীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এভাবেই ফাকুৱা অসমের লোকসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হোলি সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহনশীলতা ও প্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এই উৎসব পুরনো মনোমালিন্য ভুলে একসঙ্গে মিলেমিশে থাকার শিক্ষা দেয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরম্পরা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব বোঝাতে হোলি একটি উৎকৃষ্ট মাধ্যম। আধুনিক যুগেও ফাকুয়া অসমীয়া পরম্পরার সঙ্গে অটুটভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এটি অসমের বৈষ্ণব সংস্কৃতি, ধর্মীয় আস্থা ও সামাজিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।



No comments