Header Ads

https://drive.google.com/file/d/1KYvwcVfpdZA0pOa_z8Gqbqub5aWa8YEk/view?usp=sharing.jpg

ঢাকের বাদ্য ছেড়ে কাঠের ব্যবসায়ী, তবুও হৃদয়ে বেঁচে আছে ঢাকশিল্পী সন্তোষ মালিক



মালিগাঁও, ১৭ অক্টোবর: ঢাকের আওয়াজে যখন শারদীয় দুর্গোৎসবের মণ্ডপে মণ্ডপে আনন্দের জোয়ার ওঠে, তখন সেই আনন্দের নেপথ্যে থাকা ঢাকশিল্পীদের জীবনসংগ্রামের কথা অনেকেরই অজানা থেকে যায়। 

জীবিকার তাগিদে একসময় ঢাক বাজানো শিল্পী থেকে কাঠ ব্যবসায়ী হয়ে ওঠা সন্তোষ মালিক তেমনই এক সংগ্রামী মানুষ। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েও তাঁর হৃদয়ে আজও বেঁচে রয়েছে ঢাক বাজানোর প্রতি গভীর ভালোবাসা।

চলতি দুর্গাপুজোয় মালিগাঁওয়ের পান্ডু আনন্দনগরের কৃষ্ণা রাধাকৃষ্ণ গোকুলধাম আবাসনের পুজোমণ্ডপে ঢাক বাজাতে দেখা যায় সন্তোষ মালিককে। তাঁর সঙ্গে অন্য ঢাকশিল্পীরাও ঢাকের তালে তালে মণ্ডপের পরিবেশকে মাতিয়ে তোলেন। ঢাকের সেই ছন্দে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুজো প্রাঙ্গণ।

সংসারের দায়িত্ব ও জীবিকার টানে গোলকগঞ্জের বাড়ি ছেড়ে পান্ডু আনন্দনগরে এসে পুজোমণ্ডপে ঢাক বাজানোর কাজে যোগ দেন সন্তোষবাবু। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই ঢাক বাজানোর প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। ঢাক বাজিয়ে তিনি আনন্দ পেতেন। পাড়ায় পাড়ায় বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও ঢাক বাজাতে যেতেন। এভাবেই ঢাকের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল তাঁর আত্মার সম্পর্ক।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় জীবনের পরিস্থিতি। বয়স বাড়ার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বও বাড়তে থাকে। শুধু ঢাক বাজিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় জীবিকার প্রয়োজনে তাঁকে ঢাকশিল্পীর পরিচয়ের পাশাপাশি কাঠের ব্যবসায় যুক্ত হতে হয়। বর্তমানে দুর্গাপুজো ও অন্যান্য উৎসবের মরশুমে ঢাক বাজালেও বছরের বাকি সময় কাঠের ব্যবসা ও কাঠ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালির সামগ্রী তৈরি করেই দিন কাটান তিনি।

সন্তোষ মালিকের এক ছেলে বর্তমানে ব্যক্তিগত কোম্পানির নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন। পরিবারের অন্য ভাইয়েরা প্রতিষ্ঠিত ও চাকরিজীবী হলেও নিজের জীবনসংগ্রামের পথ তাঁকে নিজেকেই বেছে নিতে হয়েছে। ঢাক বাজানো ও কাঠের কাজ—এই দুইয়ের মধ্য দিয়েই তিনি সংসারের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

সন্তোষবাবুর জীবনের গল্প শুধু একজন ঢাকশিল্পীর গল্প নয়; এটি জীবিকার তাগিদে নিজের ভালোবাসার পেশাকে পিছনে রেখে বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার এক অনন্য কাহিনি। দুর্গাপুজোর কয়েকটি দিনে ঢাকের তালে মানুষকে আনন্দ দিলেও উৎসব শেষ হলে তাঁকে আবার ফিরে যেতে হয় দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতায়।

তবুও জীবনের প্রতি তাঁর আশা ও বিশ্বাস অটুট। মা দুর্গার কাছে তাঁর একটাই প্রার্থনা—জীবনের বাকি দিনগুলি যেন ভালোভাবে কাটে ও সংসারের দায়িত্ব পালন করে যেতে পারেন। ঢাকের বাদ্য হয়তো তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন নয়, কিন্তু সেই ঢাকের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে তাঁর শৈশব, ভালোবাসা ও জীবনের বহু স্মৃতি।

No comments

Powered by Blogger.