Header Ads

https://drive.google.com/file/d/1KYvwcVfpdZA0pOa_z8Gqbqub5aWa8YEk/view?usp=sharing.jpg

অসমের বন্যাকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণার দাবি এন.এফ. রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়নের


 

গুয়াহাটি, , ৬ আগস্ট, অসমের বর্তমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করার  দাবি জানিয়েছে এন.এফ. রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়ন। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চলমান এই ভয়াবহ বন্যা কেবল একটি সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি এক গভীর মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বন্যার কারণে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। কৃষিজমি, রাস্তা-ঘাট, বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনপরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জীবিকার সংকটে লক্ষ লক্ষ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।


এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে এন.এফ. রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়নের মালিগাঁও শাখা, পান্ডু শাখা, নির্মাণ শাখা ও রঙিয়া ডিভিশনের সমস্ত শাখার যৌথ উদ্যোগে শিবসাগর জেলার নিমাইজান, শিমলুগুড়ি এবং টেঙাপুখুরি এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য এক বৃহৎ ত্রাণ সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করেন । এই মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে অসংখ্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।


ত্রাণ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নগদ ২,০০০ টাকা, বস্ত্র, ধুতি, স্যানিটারি প্যাড, ব্লিচিং পাউডার, বিস্কুট, শিশুদের পোশাকসহ বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ইউনিয়নের বিভিন্ন শাখার শতাধিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ও মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।


এই ত্রাণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এন.এফ. রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা উত্তম কুমার ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক সম্রাট মিত্র ও প্রিয়লতা সোনোয়াল, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরাজ চৌধুরী ও অসীম ডেকা। এছাড়াও মালিগাঁও, পান্ডু, নির্মাণ শাখা এবং রঙিয়া ডিভিশনের বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দও উপস্থিত থেকে ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।


উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ত্রাণ বিতরণ শেষে ফেরার পথে ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল শিমলুগুড়ি হেলথ ইউনিট প্রাঙ্গণে বন্যাকবলিত শিমলুগুড়ি রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেখানে তাঁরা বন্যার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন ও ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। প্রতিনিধিদল আশ্বাস দেয় যে, এই সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে এন.এফ. রেলওয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে এন.এফ. রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়ন বদ্ধপরিকর।


এছাড়াও শিমলুগুড়ি এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের কিছুটা স্বস্তি দিতে ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল শিমলুগুড়ি শাখার হাতে অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রী এবং বন্যা সহায়তা হিসেবে নগদ ২০,০০০ টাকা তুলে দেয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বার্থে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।


এই উপলক্ষে এন.এফ. রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়, অসমে সংঘটিত এই বিপর্যয়ের ব্যাপকতা এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বিস্তৃত যে, এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।


ইউনিয়ন আরও উল্লেখ করে যে, অতীতে বিহারে সংঘটিত বিধ্বংসী বন্যার সময় কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষভাবে হস্তক্ষেপ করে ব্যাপক ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। বর্তমানে অসমের পরিস্থিতিও সমানভাবে ভয়াবহ হওয়ায় রাজ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংবেদনশীলতা প্রদর্শন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের এক দিনের বেতন বন্যাত্রাণে প্রদান করার দাবিও জানানো হয়েছে।


এই প্রেক্ষাপটে এন.এফ. রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়ন ভারত সরকারের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—অসমের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিকে অবিলম্বে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করা, বিশেষ কেন্দ্রীয় ত্রাণ প্যাকেজ প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, কৃষি ও জীবিকা পুনরুদ্ধারে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় রোধে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।


একই সঙ্গে ইউনিয়ন অসমের সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক, শ্রমিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং জন প্রতিনিধিদের প্রতি দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দাবির সমর্থনে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জোরালোভাবে বিষয়টি উত্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছে।


এন.এফ. রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়নের মতে, বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধুমাত্র সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের প্রতিটি সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। তবে এত বড় মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ হস্তক্ষেপ এবং সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

No comments

Powered by Blogger.