অযোধ্যার রাম মন্দিরের আদলে মণ্ডপ: খুঁটি পূজার মধ্য দিয়ে জয় হিন্দ ক্লাবে দুর্গাপূজার মহাবোধনের সূচনা,
গুয়াহাটি,১৯জুলাই: বর্ষার রেশ কাটতে না কাটতেই বাঙালির মনে যেন বাজতে শুরু করেছে ঢাকের কাঠি। মা দুর্গার আগমনী বার্তাকে সঙ্গী করে, এক বুক আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী জয় হিন্দ ক্লাবের এবারের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হলো। রবিবার শাস্ত্রীয় প্রথা মেনে ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে ক্লাব প্রাঙ্গণে সাড়ম্বরে সম্পন্ন হলো 'খুঁটি পূজা'।
এলাকার অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। খুঁটি পূজার এই পুণ্য তিথিতে পাড়ার আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই ক্লাব প্রাঙ্গণে হাজির হয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন।
জয় হিন্দ ক্লাবের পূজা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি বছরের মতো এবারও দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে এক বিশেষ চমক। এই বছরের পূজার মূল আকর্ষণ হতে চলেছে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার ঐতিহাসিক রাম মন্দিরের আদলে তৈরি কাল্পনিক মণ্ডপ। নিখুঁত শিল্পকলা ও চোখধাঁধানো আলোকসজ্জার মাধ্যমে রাম মন্দিরের সেই আবহ মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হবে, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে নজর কাড়বে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা। জানা গেছে, জমকালো এই আয়োজনের জন্য এবারের বাজেট ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা।
আজকের এই শুভ খুঁটি পূজা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মণ্ডপ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ক্লাবের কর্মকর্তা, সদস্যবৃন্দ এবং পুজোপ্রেমী সাধারণ জনগণ।
এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই এবারের পূজা কমিটির নতুন কর্মকর্তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন কল্লোল চক্রবর্তী এবং সেক্রেটারি পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উৎপল দাসকে।
অনুষ্ঠানে সুখরঞ্জন দে, শুভান দাস,বুলন হালদার,চিন্ময় দে, বিপুল সুর, ক্লাবের মহিলা সদস্যরা ও স্থানীয় মহিলারা উপস্থিত ছিলেন।
খুঁটি পূজা সুসম্পন্ন হওয়ার পর উপস্থিত সকলের মধ্যে মিষ্টি ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পূজা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ থেকেই মণ্ডপ তৈরির কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে গেল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দর্শনার্থীদের একটি দৃষ্টিনন্দন ও স্মরণীয় মণ্ডপ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ।



No comments