গুৱাহাটী , ২১ জুন: ভারতের অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান সংস্থা ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া (আইডব্লিউএআই) এবার ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করা হয়। আসামের প্রাণরেখা ব্রহ্মপুত্র নদীর বুকে ভাসমান জাহাজে যোগাভ্যাসের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়, যা উপস্থিত সকলের কাছে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।
গুয়াহাটির পান্ডুতে আইডব্লিউএআই-এর কর্মকর্তা, কর্মচারী ও যোগপ্রেমীরা জাতীয় জলপথ-২ (ব্রহ্মপুত্র নদী) দিয়ে চলাচলরত টাগবোট এমপিটি সুখদেব এবং এইচপিটি ড. বি.আর. আম্বেদকর-এ আরোহন করে ‘কমন যোগা প্রোটোকল’ অনুসরণ করে সম্মিলিতভাবে যোগাভ্যাস করেন। নদীর মাঝখানে ভাসমান জাহাজে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ কর্মসূচি আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
শুধু পান্ডুতেই নয়, যোগীঘোপাতেও ডব্লিউবি স্যাফরন জাহাজে যোগাভ্যাসের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, ডিব্রুগড়ের বগীবিলে ব্রহ্মপুত্রের জলরাশির ওপর ভাসমান ডব্লিউবি আইরিস এবং ডব্লিউবি ট্যানসি জাহাজেও যোগ দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে আইডব্লিউএআই-এর কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশগ্রহণ করেন।
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে যোগচর্চাকে আরও ব্যাপকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরীণ জলপথের অপরিসীম সম্ভাবনা ও সৌন্দর্যও তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রকৃতি ও মানবকল্যাণের মধ্যে সুসমন্বয়ের বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইডব্লিউএআই-এর গুয়াহাটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক (ইন-চার্জ) প্রবীণ বরা বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে যোগ আজ বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ও সুস্থতার এক শক্তিশালী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের অনুপ্রেরণায় আইডব্লিউএআই দেশের অভ্যন্তরীণ জলপথের রক্ষক হিসেবে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়কে তুলে ধরে এই বিশেষ আয়োজনে। ব্রহ্মপুত্রের বুকে জাহাজে যোগাভ্যাস প্রকৃতি ও মানুষের সুস্থতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং একটি সুস্থ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের বার্তা বহন করে।”
এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘যোগ ফর হেলদি এজিং’ (সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ)। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং সামগ্রিক জীবনযাপনের উন্নয়নে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ভারতের নদীসভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যোগের গভীর সম্পর্কও নতুনভাবে প্রতিফলিত হয় এই অভিনব উদযাপনের মাধ্যমে।




No comments:
Post a Comment