গুয়াহাটি, ১৩ মে,: অতি মহাসমারোহ ও উৎসবমুখর পরিবেশে মালিগাঁওয়ের কামাখ্যা বিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে গত সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হল কামাখ্যা বিদ্যালয় অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ১৬৫তম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান। দিনভর নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, প্রভাতফেরি, নৃত্যনাট্য ও কৌতুক নাটকের মধ্য দিয়ে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী এবং অতিথিবৃন্দ।
সকালে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কচিকাঁচাদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরির আয়োজন করা হয়। সকাল দশটায় শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্ল্যাকার্ড নিয়ে গানের তালে তালে বিদ্যালয়ের আশেপাশের কলোনি পরিভ্রমণ করে। পুরো পরিবেশ যেন এক অন্যরকম আবেগে ভরে ওঠে। বিদ্যালয়ের সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ অনেকের কাছেই শান্তিনিকেতনের স্মৃতি উস্কে দেয়। শোভাযাত্রা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকলেই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালে একক নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে।
এরপর উপাদেয় প্রাতঃরাশ পরিবেশনের পর মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানের সূচনাতেই সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত “সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান…”, যা উপস্থিত দর্শকদের মনে এক বিশেষ আবেগের সঞ্চার করে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নৃত্য, সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি প্রাক্তনীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পুরো প্রেক্ষাগৃহ জুড়ে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব সাংস্কৃতিক আবহ।
মধ্যাহ্নভোজনের পর শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এই পর্বের প্রধান আকর্ষণ ছিল ছয় ঋতুকে কেন্দ্র করে পরিবেশিত মনোমুগ্ধকর নৃত্যনাটিকা “ঋতুরঙ্গ” এবং কৌতুক নাটক “অভ্যর্থনা”। দুটি পরিবেশনাই দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। শিল্পীরা তাঁদের অভিনয় ও উপস্থাপনায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। বিশেষ করে নৃত্যনাটিকা ও নাটকের পরিচালিকা পাপিয়া মজুমদারের পরিচালনা সকলের নজর কেড়ে নেয়। অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীদের মধ্যে এই দুটি পরিবেশনা ঘিরে ছিল প্রবল উৎসাহ।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কামাখ্যা বিদ্যালয় অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, সাংস্কৃতিক সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। দিনভর এই সাংস্কৃতিক আয়োজন উপস্থিত সকলের মনকে আনন্দে ও গর্বে ভরিয়ে তোলে।

No comments:
Post a Comment